so_62559

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ‘নতুন কেনেডি’হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে

নবদ্বীপ নিউজ ঃ- সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের কাতারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছিলেন এক ভিন্ন ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ছিলেন বিশ্ব-মিডিয়ার এক আকর্ষণীয় নেতা।
পশ্চিমের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নানা কারণেই এখন আলোচিত। পাশের দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে জাস্টিন ট্রুডোকে উত্তর আমেরিকার ‘নতুন কেনেডি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।জার্মানির বিখ্যাত সংবাদপত্র বিল্ড প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নিজের কথা; বলেছেন, নিকট প্রতিবেশী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাও।

সাক্ষাৎকারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, জনগণ ট্রাম্পকে সমস্যা দূর করার জন্য ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প-বিরোধী জনমত দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

দেড় শ বছর পেরিয়ে সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়, বহুজাতিক, প্রগতিশীল, উদার ও সম্পদশালী কানাডা বর্তমানে আমেরিকার চেয়ে উত্তম কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রুডো বলেন, ‘কয়েক যুগ ধরে আমরা আমাদের নিজেদের সংজ্ঞায়িত করেছি, যা এখন উদ্‌যাপন করার মতো। অন্যের বিপরীতে আমরা কেমন, তা পরিমাপ করতে আমাদের এখন আর কারও সঙ্গে তুলনা করার প্রয়োজন নেই।’

‘আপনার ডাকনাম “ট্রাম্প-বিরোধী”, এটা কি আপনাকে বিব্রত করে, না সাহায্য করে?’ এর উত্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দেহে যখন কোনো মোড়ক লাগানো হয়, তার প্রতি আমি মনোযোগ দিই না। আমি যা প্রয়োজন, তার প্রতিই গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকাকে সম্মান করি। কানাডার জনগণ আমার কাছে আশা করে, আমি যেন আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষায় অনড় থাকি।’ তিনি বলেন, ‘কানাডার জনগণের প্রত্যাশা—আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার আমেরিকার সঙ্গে যেন গঠনমূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখি।’

বিল্ড-এর সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ‘মনে হচ্ছে, আপনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তোষণ নীতি অনুসরণ করছেন। আপনি তাঁকে আক্রমণ করছেন না। বিশেষ করে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পকে কোন বিষয় শোনা উচিত বলে আপনি মনে করেন?’ উত্তরে ট্রুডো বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্ট করে বলব, ভবিষ্যতের জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। জলবায়ুর যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মোকাবিলা করব। তবে এটাকে আমরা বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও বিবেচনা করি। একইভাবে বিশ্ববাণিজ্যের প্রতিও আমাদের সম্মানবোধ রয়েছে। সামান্য কিছু মানুষ এ থেকে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সুযোগের বাইরে রয়েছে। ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলোর স্বার্থ দেখতে হবে এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে হবে।’

কোন কোন ক্ষেত্রে জি-২০-এর নেতাদের ট্রাম্পের কথা শোনা উচিত, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রুডো বলেন, জনগণই ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছেন। বিশ্বায়ন ও বিশ্ববাণিজ্য আমেরিকার জনগণের জন্য অবদান রাখছে। যুগ যুগ ধরে জনগণ রাজনৈতিক সংস্থার দ্বারা নিজেদের উপেক্ষিত ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাবছেন—জনগণ তাঁকে সমস্যার সমাধান করার জন্য ভোট দিয়েছেন। সর্বত্রই হতাশা। জনগণের ক্ষোভ সর্বত্র। এমনকি জি-২০ সম্মেলন চলাকালে হামবুর্গে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে। মানুষের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের ভয় ও উদ্বেগের বিষয়টি বুঝতে হবে এবং সেগুলোর যথাযথ জবাব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘যদি আপনি মধ্যবিত্ত শ্রেণির কঠোর পরিশ্রমী মানুষের প্রতি গুরুত্ব দেন, তবে আপনিও উপকৃত হবেন এবং আরও স্থিতিশীল উন্নয়নের উপায় বেরিয়ে আসবে। মানুষের ক্ষোভকে এভাবেই মোকাবিলা করা উচিত।’

ব্লিড সাংবাদিক ট্রুডোকে বলেন, ‘আপনি পপুলার (জনপ্রিয়), কিন্তু পপুলিস্ট নন। এ ব্যাপারে আপনার মত কী।’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ ধনীদের ট্যাক্স ১ শতাংশ বাড়িয়েছি। আর মধ্যবিত্তের ট্যাক্স হ্রাস করেছি। আমরা শিশুকল্যাণ-সংক্রান্ত সমস্যা দূর করেছি। যাদের প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য কম; যাদের প্রয়োজন, তাদের আরও অধিক সাহায্য করার নীতি গ্রহণ করেছি।’

হামবুর্গে একই হোটেলে অবস্থানকারী জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জি-২০ ছাড়াও কোন বিষয়ে আলাপ করবেন, এ প্রশ্নের জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘ম্যার্কেল খুবই বিজ্ঞ বিশ্বনেতা। আমি জানতে চাইব, কানাডা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে? এ বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন? আমরা বড় নই। কিন্তু আমরা কিছু কাজ করার ক্ষমতা রাখি। লাটভিয়ার মতো দেশের জন্য কানাডার কিছু করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় আমি তাঁকে শোনাব। আমাদের নাগরিক এবং অন্যত্র বসবাসকারী সবার জন্য আরও সুন্দর পৃথিবীর স্বার্থে জি-২০ নেতারা আরও গঠনমূলক কথা বলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’

জার্মানি সম্পর্কে তাঁর ধারণা কী, এমন প্রশ্নে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জার্মানরা অপূর্ব। তাঁরা চিন্তাশীল। আপনারা অনুভব করছেন, বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে। এবং আপনারা এর অংশীদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিমাতা পূর্ব জার্মানিতেই জন্মেছিলেন। আমি জার্মান সংস্কৃতি ও খাবারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই বড় হয়েছি। জার্মানিতে আমি আত্মীয়তার স্পর্শ অনুভব করছি। কানাডার চেয়েও আপনারা বেশ সুগঠিত, সংগঠিত, সাজানো-গোছানো। আপনাদের এখানে ফ্রান্স ও লাতিন রক্তবহনকারী বহু মানুষ রয়েছেন। আমি কানাডা ও জার্মানির মধ্যে সম্ভাবনাময় অংশীদারত্বের সামঞ্জস্যতা খুঁজে পাচ্ছি। জার্মানির নেতৃত্বে এ দেশের সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় কানাডা-ইউরোপ বাণিজ্যিক চুক্তি নিঃসন্দেহে একটা উৎকৃষ্ট বিষয়।’ কানাডা এটিকে সামনে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় উন্মুখ বলে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাঁর সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>