Untitled

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি বাবদ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

নবদ্বীপ নিউজ ঃ- শুধু অর্থের উৎস হিসেবেই বিবেচনা করছে কানাডার অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।’ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে কানাডিয়ান ফেডারেশন অব স্টুডেন্টসের (সিএফএস) অন্টারিও ইউনিটের চেয়ারপারসন নূর আলিদিবের মন্তব্য এটি। অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্প্রতিক প্রবণতা তার এ মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর এ কথার সপক্ষে রয়েছে সিবিসি নিউজের করা সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনও।

অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সম্প্রতি একটি গবেষণা চালায় সিবিসি নিউজ, যেখানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। এতে বলা হয়, অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ বছরের প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে টিউশন ফি বাবদ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১১-১২ বছরেও এর পরিমাণ ছিল ৬২০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র চার বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রাদেশিক সরকারের গৃহীত নীতির কারণে অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গত কয়েক বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের কারণেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কানাডামুখী হচ্ছে। কানাডার অ্যাডভান্সড এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ছয় বছরে অন্টারিওর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে স্থানীয় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।

মূলত অর্থের জোগান এ ব্যবধান গড়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সিএফএস অন্টারিওর চেয়ারপারসন নূর আলিদিব। সিবিসি নিউজকে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তারা শুধু অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রাদেশিক সরকারের নীতির কারণেই এমনটা ঘটছে। উচ্চশিক্ষায় প্রাদেশিক সরকারে বরাদ্দ কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপকভাবে বাড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু টিউশন ফির পরিমাণ। মূলত বাজেট ঘাটতি মেটাতেই তারা ব্যবহার করছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের।

বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে কাউন্সিল অব অন্টারিও ইউনিভার্সিটিজের প্রতিবেদনেও। এতে বলা হয়, সরকারি বরাদ্দ কমায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্ভরশীলতা ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি বরাদ্দ দিয়ে বর্তমানে মোট পরিচালন ব্যয়ের মাত্র ৪০ শতাংশ নির্বাহ করা যায়। ২০১১-১২ বছরেও এ পরিমাণ ছিল ৪৬ শতাংশ।

এ ঘাটতি মেটানোর দায় আক্ষরিক অর্থেই গিয়ে পড়ছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে রয়েছে কঠোর নীতিমালা। কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এমন কোনো নীতিমালা না থাকায় টিউশন ফি নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্জির ওপর। বর্তমানে অন্টারিওতে স্নাতক পর্যায়ে একজন স্থানীয় শিক্ষার্থীকে এ বাবদ গড়ে ৬ হাজার ৩২৭ ডলার ব্যয় করতে হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ২৩ হাজার ৫১০ ডলার। একই অবস্থা টরন্টোতেও। সেখানে একই পর্যায়ের স্থানীয় শিক্ষার্থীর টিউশন ফি বাবদ ব্যয় ৬ হাজার ৪০০ ডলার হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে তা ৪১ হাজার ৯২০ ডলার।

বিষয়টিকে কোনোভাবেই ন্যায্য মনে করছেন না ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠা কোহলি। মনোবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে আসা এ শিক্ষার্থী বলেন, এটা অনেক বড় বৈষম্য। উচ্চশিক্ষার জন্য আসা কারও সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সহায়ক ও ন্যায্য হতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ভর্তি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক রিচার্ড লেভিন এ বিষয়ে সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসৃত পদ্ধতি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তিতে বাড়তি কিছু যোগ্যতা চায়। কিন্তু এ ক্ষেত্র একটি সীমা থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যাতে একটি ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, অন্য দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকেই ঋদ্ধ করতে ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>