kkkklookh

কানাডার মত নিরাপদ দেশে থেকে কেন লুকোচুরি খেলা বিচারপতি এসকে সিনহার??

নবদ্বীপ নিউজ ( স্টাফ রিপোর্টার)ঃ- কানাডা বিশ্বের সেরা দেশের মধ্যে অন্যতম বা টরন্টো শহর বসবাসের জন্য সবদিক থেকে উন্নত ও নিরাপদ বলা হয় তা আমরা প্রায় সকলেই জানি। মানুষের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে এ দেশে যে সব ব্যবস্থাবলী রয়েছে তা বাংলাদেশের সাথে বা বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনা করা যায় না।সেই দেশ কানাডাতে এখন বাংলাদেশের সদ্য পদত্যাগী বা ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা । তিনি এখন কানাডার টরন্টোতে অবস্থান করছেন খবরটি এখন মোটামুটি সবাই জানে।  

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটি নিয়ে এসেছেন ? না পদত্যাগ করে এসেছেন ? তা এখনও ধোয়াশে । যতটুকু আমরা সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি তা হল, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি নাকি ক্যান্সার প্যাশেন্ট। তবে আগে তার অসুস্থতার কথা তেমন শোনা যায়নি। আবার কানাডা আসার আগে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। সুস্থ মানুষ, ছুটির আবেদনে অসুস্থতার কথা লিখলেন কেন?

তিনি কি স্কুলের সেই দুষ্টু শিক্ষার্থীর মতো, যে কি না অসুস্থতার কথা বলে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়? কানাডা থেকে বহুল প্রচারিত বাংলা মেইল পত্রিকা প্রকাশ করেছে, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বোস্টন, নিউইয়র্কও ঘুরে এসেছেন কানাডা আসার পর । তিনি তো কেবল একজন ব্যক্তিমাত্র নন, তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি যদি অসত্য তথ্য দিয়ে ছুটি চান, সেটা একেবারেই সমর্থন করা যায় না।কেউ হয়তো বলবেন, তিনি পরিস্থিতির স্বীকার। তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসে, এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কে? তাছাড়া যাকে ‘বাধ্য’ করা যায় তিনি কি খুব শক্ত মেরুদণ্ডের মানুষ? ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেওয়ার পর তাকে তো অনেকে শক্ত মেরুদণ্ডের মানুষ বলেই মনে করেছেন। অনেকে তার সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেকেই তা সমর্থন করেছেন।  
দেশের যিনি প্রধান বিচারপতি, তিনি যথেষ্ট কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ – এটা আমাদের ধরে নিতেই হবে। তিনি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু করবেন না। তিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। অন্যায় দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।  

যদি প্রকৃত অর্থে একজন সৎ ও সাহসী মানুষ হিসেবেই তিনি নিজেকে প্রমান করতে চান ? তাহলে পদত্যাগ বা ছুটি নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি খেলার প্রয়োজন আছে কি? যিনি চাপের মুখে ছুটির আবেদনে ভুল তথ্য লিখতে পারেন, তিনি রায় দেওয়ার বেলায়ও কারো চাপে বা অন্য কোনো প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে রায় দিয়েছেন – এমন কথা কেউ বললে তাকে কীভাবে ভুল প্রমাণ করা যাবে? তিনি  দেশত্যাগের আগে নিজের সুস্থতার কথা যেহেতু বলতে পারলেন, সেহেতু তিনি আরও কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারতেন। কেন বললেন না ? কথা বলা যিনি পছন্দ করেন, তিনি কানাডার মত নিরাপদ দেশে থেকে চুপ বা নিরব থাকলে তাতে সন্দেহ বাড়ে।    

বিচারপতি সিনহা একজন প্রচারপ্রিয় মানুষ। তার আগে দেশে আরো অনেকে প্রধান বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করেছেন। তাদের কেউ বিচারপতি সিনহার মতো এত সভা-সমাবেশে যোগ দেননি, এত কথাও বলেননি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার চটুল মন্তব্যও তিনি করেছেন। কিন্তু পুরা জাতিকে ধোয়াশে পরিবেশে রাখা এবং বিচার বিভাগকে বড় রকম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা ছাড়া আর কোন ‘মহৎ’ কর্ম তিনি সাধন করলেন?

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করবেন বলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যে মন্তব্য করেছিলেন জাতি এখনও আশা করে যে তার কথা শুদু কথার কথায় পরিণত না হয় । কানাডার মত নিরাপদ দেশে থেকে গুটি কয়েকজনকে ডেকে তাদের সাথে আড্ডা না দিয়ে  সাহসীকতার সাথে বিশ্বের সকল মিডিয়াকে ডেকে সত্য প্রকাশ করুন এবং অভাগা বাংলাদেশ কে অন্ধকার থেকে মুক্ত করুন ।    

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বসবাস দীর্ঘ হতে পারে বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন একটি সূত্র আভাস দিয়েছে। ১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং কানাডা এসে টরন্টো পিয়ারসন ইনটারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তিনি ডাউন টাউনে ভাড়া করা একটি বাসায় উঠে বলে জানা যায়। তার বসবাসের জন্য  বাড়িটি ভাড়া করা হয়েছে আগেই।  

প্রসঙ্গত, ভিজিটর হিসেবে কানাডায় আসা যে কেউ ছয় মাস পর্যন্ত এই দেশে অবস্থান করতে পারেন। এর পর অসুস্থতা বা যুক্তিসঙ্গত কারণে সেটি বাড়ানোর আবেদন করলে কানাডা ইমিগ্রেশন সেটি বিবেচনায় নেয়। ফলে বিচারপতি সিনহার দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থান করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।

নিউজ আপডেট তারিখ- ২০১৮-০২-০১ 05:10:37 নিউজটি শেয়ার করুন
নবদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কমের সাথে থাকতে দয়া করে এইখানে ক্লিক করে আমাদের এই পেজ এ লাইক দিন ও পেজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>